ন্যাটো সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে কিয়েভ ও আশপাশের সামরিক, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পলতাভা, চেরকাসি, চেরনিহিভ ও কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক বিমানঘাঁটি, ড্রোন ও রাডারের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা, ভিশনেভের একটি জ্বালানি ডিপো, একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা এবং সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনকারী বিভিন্ন স্থাপনা।
অন্যদিকে ইউক্রেনও একই রাতে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তাদের হামলায় ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দার দ্রোজদেঙ্কো জানান, ওই অঞ্চলের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং উস্ত-লুগা ও ভাইসোতস্ক বন্দর লক্ষ্য করে ৫৬টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। তবে সবগুলোই রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেন মোট ৫১৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। এর সবগুলোই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে আজ সোমবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনের ঠিক আগে উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।