হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের দিকে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজ দুটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাগুলো এমন সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে দক্ষিণমুখী একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করছিল। বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও উল্লেখ করেছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দেশটির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।
এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, ওমানের জলসীমা ঘেঁষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অন্যথায় নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।