মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের জয় শুধু ফুটবলপ্রেমীদেরই নয়, আলোড়িত করেছে বিনোদন অঙ্গনের তারকাদেরও। এ নিয়ে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তার মতে, এই ম্যাচ ছিল শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, জীবনেরও এক বড় শিক্ষা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের শুরুতে দিদিমার শেখানো একটি প্রবাদ স্মরণ করেন অপরাজিতা। তিনি লেখেন, ‘গাইতে গাইতে যার গলায় সুর নেই, সেও একদিন একটু একটু গাইতে শিখে যায়।’ তার ভাষ্য, এই কথাটি শুধু সংগীত নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
ফুটবল নিয়ে নিজের সীমিত জ্ঞানের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি ফুটবলের মানুষ নই। অফসাইড, প্রেসিং, ফলস নাইন বা উইং—সবকিছু এখনও পুরো বুঝি না। তবে খেলাটা দেখতে ভালোবাসি। আর ভালোবাসতে ভালোবাসতেই খেলার ভাষাও একটু একটু করে শিখে ফেলেছি।’
ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়ও লিওনেল মেসির শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির প্রশংসা করে অপরাজিতা লেখেন, ‘মেসির মুখে তখনও আতঙ্কের কোনো ছাপ ছিল না। ছিল এক শিশুর মতো শান্ত হাসি। সেই হাসি যেন বলছিল—শেষ বলে কিছু হয় না, শেষ মানেই নতুন শুরুর অপেক্ষা।’
শেষ কয়েক মিনিটে আর্জেন্টিনার তিন গোলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে ম্যাচ হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ নেয়।
নেতৃত্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অপরাজিতা আরও লেখেন, ‘মহান নেতৃত্ব মানে সব আলো নিজের ওপর টেনে নেওয়া নয়; অনেক সময় অন্যের জন্য আলো জ্বালিয়ে দেওয়াও নেতৃত্ব। সব গোল নিজেকে করতে হবে না, সব কৃতিত্ব নিজের হতে হবে না। কখনও কখনও অন্যকে জায়গা করে দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়।’
অপরাজিতার এই পোস্ট ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার লেখাকে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনবোধ ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা হিসেবে দেখছেন।