নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয় এবং তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তিন দস্যুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।বাহিনীটি আরও জানায়, সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।