স্বল্প বাজেটে নির্মিত কন্নড় চলচ্চিত্র ‘প্রেমাদা উরালি’ বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানা গেছে। মাত্র ৩ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত রোমান্টিক-পারিবারিক ঘরানার সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ইতিমধ্যে ১১৩ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অল্প বিনিয়োগে বিপুল আয়ের এই সাফল্য ছবিটিকে কন্নড় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের হিসাবেও সিনেমাটি বিশেষ নজর কেড়েছে। বড় বাজেটের দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘কেজিএফ’ ও ‘কান্তারা’র সঙ্গে তুলনা টেনে ছবিটির সাফল্য নিয়ে আলোচনা করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। তবে এসব সিনেমার বাজেট ও আয়ের হিসাবের ভিত্তিতে লাভের হার তুলনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট বক্স অফিসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
গ্রামীণ পরিবেশে নির্মিত ‘প্রেমাদা উরালি’র গল্প আবর্তিত হয়েছে বাবা-ছেলের সম্পর্ক, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাতকে কেন্দ্র করে। পরিবারে আধুনিক মনোভাবাপন্ন এক পুত্রবধূর আগমন কীভাবে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দেয়, তা তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে। একই সঙ্গে প্রচলিত সামাজিক রীতির বিরুদ্ধে একজন নারীর অবস্থান, গ্রামের মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং পারিবারিক আবেগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
চলচ্চিত্রটির জনপ্রিয়তার পেছনে এর গল্প, গ্রামীণ জীবনের উপস্থাপন এবং সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে দর্শকের সংযোগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বড় তারকা কিংবা বিপুল প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে গল্পনির্ভর নির্মাণের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টিও ছবিটির সাফল্য নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে সিনেমাটি নির্মাণ ও মুক্তির পথ সহজ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে চিত্রগ্রাহক রাজকান্ত এসকে জানিয়েছেন, প্রচার ও মুক্তির শেষ পর্যায়ের ব্যয় মেটাতে মাত্র ১৫ লাখ রুপির আর্থিক সহায়তার জন্য তাঁরা একাধিক বড় প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বাজেটের সীমাবদ্ধতা ছিল শুটিংয়ের সময়ও। শতাধিক কলাকুশলীর জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের একটি সাধারণ মিলনায়তনের মেঝেতে রাত কাটাতে হয়েছিল বলে জানান চিত্রগ্রাহক। অন্যদিকে, পরিচালক মনোজ কুমারের নিজ গ্রামে দৃশ্যধারণের সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছিল।
আর্থিক সংকটের কারণে বড় পরিসরে প্রচারণা চালানোর সুযোগ না থাকায় নির্মাতা দল বিকল্প কৌশল গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্ণাটকের প্রায় ১০ হাজার অটোরিকশার পেছনে রেডিয়াম স্টিকার লাগানো হয়। পাশাপাশি বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের আদলে কার্ড ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসেন।
মুক্তির আগে একাধিক প্রেক্ষাগৃহের মালিক প্রদর্শনীর শো বাতিল করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকায় ছবিটির প্রদর্শনী অব্যাহত থাকে। মুক্তির ২৯তম দিনেও প্রতিদিন ৭০০টির বেশি প্রদর্শনী এবং প্রায় প্রতিটি শো পূর্ণ দর্শক নিয়ে চলার দাবি করা হয়েছে। দর্শকের চাপ সামলাতে কিছু প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত চেয়ার বসানো এবং মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা করার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে ‘প্রেমাদা উরালি’র সাফল্যের গল্প শুধু বক্স অফিসের আয়েই সীমাবদ্ধ নয়; সীমিত অর্থ, প্রচারণার অভাব এবং নির্মাণের প্রতিকূলতা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টাও এর আলোচনার বড় অংশ। তবে সিনেমাটির আয়, প্রদর্শনীর সংখ্যা ও লাভের হিসাবের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে এর বাণিজ্যিক সাফল্যের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।