ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৮ মিনিটে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের একটি নৈশকোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসটির রেলিং ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি সেটি সার্ভিস লেন অতিক্রম করে খাদে আছড়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। বাকি দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি বেপরোয়া গতিতে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন পার হয়ে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অপর পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে হৃদয়, শাহিন আক্তার, নূর ইসলাম, ইমরান, গিলবাড সরকার, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, অনিফিন, সন্দীপন বসু, ইকরাম, রায়হান, হাসিব, তিশা ও বোরহান উদ্দিন রয়েছেন। তাঁরা প্রধানত চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে বাসটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।