অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে হিজাব পরা ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বাসে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘অভিবাসী কুকুর’সহ বিভিন্ন অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।
স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্ট্রাথফিল্ড রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই বাসে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন যাত্রীকে এক ব্যক্তি মৌখিকভাবে হেনস্তা করেন। পরে তিনি স্ট্রাথফিল্ডের লিভারপুল রোড এলাকায় বাস থেকে নেমে যান।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জান্না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর পরনে তখন স্কুলের পোশাক ও হিজাব ছিল।
জান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে হিজাব পরা আরেক স্কুলছাত্রীর ছবি তার অজান্তে তোলা হচ্ছে বলে তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি ওই ছাত্রীকে জানানোর পর তিনি তার পাশে দাঁড়ান। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গালাগাল শুরু করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে জান্নাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘অভিবাসী কুকুর’সহ বিভিন্ন অপমানজনক কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় জান্না কয়েকবার জানান, তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় জন্মেছেন এবং কখনো দেশের বাইরে যাননি বলেও জানান।
জান্নার মা রুলা অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে বলেন, অন্য এক স্কুলছাত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় তার মেয়েকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। বাসে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী থাকলেও একজন নারী ছাড়া আর কেউ মেয়েটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর জান্না ও তার মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রিনএকার একটি বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ব্যাংকসটাউন পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয় এবং ভয় বা শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অনুসরণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ইসলামবিদ্বেষ মোকাবেলাবিষয়ক বিশেষ দূত আফতাব মালিক। মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবহন কর্তৃপক্ষকে তার দপ্তরের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্সও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মুসলিম নারী ও মেয়েদের হিজাব পরে বাসে যাতায়াত, স্কুলে যাওয়া কিংবা রাস্তায় চলাচলের সময় নির্যাতন বা ভয়ভীতির শিকার না হওয়ার অধিকার রয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গণপরিবহনে প্রত্যেক মানুষের নিরাপদে যাতায়াত এবং নিজেকে নিরাপদ মনে করার অধিকার রয়েছে।
এদিকে ইসলামোফোবিয়া রেজিস্টার অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে তাদের কাছে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সাপ্তাহিক গড় ২ দশমিক ৫টি থেকে বেড়ে ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এ সময়ে ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার হার ৬১২ শতাংশ বেড়েছে।












