সরাসরি ২২ ও ট্রানজিট ৩৯ ফ্লাইট বন্ধ; সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার জেরে অনিশ্চয়তায় যাত্রীরা, ফ্লাইট স্থগিতের সময় বাড়িয়েছে একাধিক এয়ারলাইনস
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা থেকে সৌদিগামী অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী। এসব যাত্রী ৬১টি স্থগিত ফ্লাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে অনেক যাত্রীর সৌদি আরব যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটের যাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ, এয়ারলাইনসটি এখনো তাদের যাত্রীসংখ্যা জানায়নি। তথ্য পাওয়া গেলে মোট যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।
বেবিচকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এর আগে ৫১টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার কারণে ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রীর ভোগান্তির তথ্য জানানো হয়েছিল। নতুন হিসাবে স্থগিত ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে ৬১টিতে এবং ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৩৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় স্থগিত ফ্লাইট বেড়েছে ১০টি এবং যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৯৬৩ জন।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবগামী স্থগিত হওয়া ২২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে চারটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি, সৌদিয়ার চারটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের যাত্রার সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যাঁরা নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের নতুন সময়সূচির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে যাঁদের জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাওয়া প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে কতজনের যাত্রা কত দিন পিছিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি বেবিচক।
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরবগামী ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে। এসব ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস যুক্ত।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি, সালামএয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীরা সাধারণত অন্য কোনো দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান। ফলে একটি ফ্লাইট স্থগিত হলে তাঁদের পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা, নতুন টিকিটের ব্যবস্থা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের জন্য কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে তাদের নিজ নিজ বিজ্ঞপ্তি ও হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বেবিচক জানিয়েছে, স্থগিত ৬১টি ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যার হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারের যাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এয়ারলাইনসটি এখনো তাদের ফ্লাইটগুলোর যাত্রীসংখ্যা কর্তৃপক্ষকে জানায়নি।
ফলে বর্তমানে প্রকাশিত ৮ হাজার ৩৮১ জনের হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। রিয়াদ এয়ারের যাত্রীসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে মোট ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ কারণে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিতের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে পরবর্তী সময়ে বেবিচকের হালনাগাদ হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা নির্ধারণের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না, তা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
যাত্রীদের তাই বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট স্থগিত, সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা বিকল্প রুট ব্যবহারের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সব ফ্লাইট স্থগিতের কারণ ও প্রতিটি বিমানবন্দরের বর্তমান কার্যক্রমের অবস্থা একই কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বেবিচকের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৬১টি ফ্লাইট স্থগিতের কারণে অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। রিয়াদ এয়ারের যাত্রীসংখ্যা যুক্ত হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি কী হবে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী রাখা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনসের পরবর্তী ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সরবরাহ করা প্রতিবেদন।












