সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ এ মামলা দায়ের করা হয়।
গত বুধবার রাতে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তানভীর ডাল মিল অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজার মো.মনিরউদ্দীন বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় বহিস্কৃত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল ছাড়াও তার সহযোগী ছোট ভাই আব্দুল লতিফ (৩০), সবুর খাঁন (৩০), আলমগীর হোসেন (৫০), মোরসালিন মিয়া (২৫), মনির হোসে (২৩) ও আবুল খায়েরকে আসামী করা হয়।
সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেঘনা গ্রুপের সিরামিক ফ্রেশের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে প্রতিদিন আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রতিটি গাড়ি থেকে এক হাজার ১শ’ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় সিরামিক ফ্রেশ ট্রাকের চালক মো. ফরিদ মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দা, কুড়াল, চাপাতি ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ভয়ে চালক ফরিদ মিয়া ৫শ’ টাকা তাদের চাঁদা প্রদান করেন। পরদিন সকালে আবারও ওই গাড়ি চালকের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করলে চালক আগের দিন টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এসময় তার গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে হয়রানী করে। পরে আরও ৫শ’ টাকা দেওয়ার পর চাবি ফেরত দেয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি কাউকে জানালে চালক ফরিদ মিয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া নদী পথে মেঘনা গ্রুপের জেটিতে নোঙর করা প্রতিটি জাহাজ থেকেও জলিলের নেতৃত্বে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কের পাশে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় একটি কথিত অফিসকে জলিলের ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও হেলপারদের সেখানে আটকে মারধর এবং গাড়ির কাগজপত্র,মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল জলিল পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। চাঁদাবাজি, জমি দখল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে গত ২২ আগস্ট তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিস্কার করা হয়। তবে আব্দুল জলিলকে বহিস্কার করা হলেও বিভিন্ন দলীয় সভা ও সমাবেশের তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।
মামলার বাদী মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তানভীর ডাল মিল অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজার মো. মনির উদ্দীন জানান, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর থেকে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় কোম্পানির গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে চালকদের জিম্মি করে তার টর্চার সেলে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখায়। ভয়ে চালকরা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। এছাড়াও কোম্পানির জেটিতে গিয়ে তারা জাহাজ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে। তার চাঁদাবাজিতে শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
বহিস্কৃত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, মেঘনা গ্রুপের সঙ্গে তার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তার জমি কোম্পানি নামজারি করে নিয়ে গেছে। এবিষয়ে তিনি ইউএনও কার্যালয় ও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ জন্য তাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ মামলা গ্রহন করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ।












