কানাডায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর ১২তম আসরে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমাটি এবারের উৎসবে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এর মধ্যে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন নাজিফা তুষি। পাশাপাশি সেরা সিনেমাটোগ্রাফি ও সেরা সংগীতের পুরস্কারও পেয়েছে ‘রইদ’।
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত ‘রইদ’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনসহ সিনেমাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আনন্দ ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। এক উৎসবেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জনকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও সম্মানের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক যুগ ধরে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা ‘মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নির্মাতাদের কাজও এই উৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এবারের আসরে ‘রইদ’-এর এমন সাফল্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উৎসবের এবারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রের প্রধান পুরস্কার জিতে নিয়েছে নেপালের সিনেমা ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। সিনেমাটি এর আগে বিশ্বখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে জুরি পুরস্কার অর্জন করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ‘রইদ’-এর তিনটি পুরস্কার জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘রইদ’ চলচ্চিত্রের গল্প গড়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদের বাস্তবতা এবং আদম ও হাওয়ার পৌরাণিক উপাখ্যানের রূপক মেলবন্ধনকে কেন্দ্র করে। মানুষের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, সম্পর্ক এবং রহস্যময় মানসিক টানাপোড়েনের নানা দিক চলচ্চিত্রটিতে তুলে ধরেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। বাস্তবতার সঙ্গে পৌরাণিক আবহের এই সংযোগ সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
চলচ্চিত্রটিতে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন নাজিফা তুষি। চরিত্রটির আবেগ, দ্বন্দ্ব ও মানসিক টানাপোড়েন পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা গাজী রাকায়েত এবং তরুণ অভিনেতা আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।
কানাডার উৎসবে পুরস্কার পাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে আলোচনায় এসেছে ‘রইদ’। নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডামের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘রইদ’ ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
সবশেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় স্বীকৃতিও পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। অস্কারের ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ‘রইদ’কে বাংলাদেশের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ফলে কানাডার মোজাইক চলচ্চিত্র উৎসবে তিনটি পুরস্কার জয় সিনেমাটির আন্তর্জাতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।












