মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের বাস আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ-সিলেট, হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেটসহ জেলার বিভিন্ন রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না। ফলে সকাল থেকেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। তাদের অভিযোগ, মৌলভীবাজারের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করেছেন।
মালিক গ্রুপের দাবি, সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পর হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা দাবি করেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান পরিবহন মালিক নেতারা।
এর আগে দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠকও হয়েছিল। ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটেছে বলে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হতে পারে।












