ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করায় শুটিং সেটে একাধিক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তেকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির একটি মানসিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাধিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কয়েকটি সিনেমায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করার পর ইন্ডাস্ট্রির একাংশ ধরে নিয়েছিল, তিনি যেকোনো ধরনের ঘনিষ্ঠ বা শরীর প্রদর্শনমূলক দৃশ্যে সহজেই রাজি হয়ে যাবেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত চুমুর দৃশ্য যুক্ত করার প্রস্তাবও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে এসব প্রস্তাবে বরাবরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাধিকা। প্রয়োজন না থাকলে কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি রাজি নন—এমন সিদ্ধান্তের কথা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।
অভিনেত্রী জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চার-পাঁচটি ছবিতে অনাবৃত দৃশ্যে অভিনয় করার পর তার সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশের ধারণা তৈরি হয় যে, তিনি এ ধরনের দৃশ্যে সহজেই সম্মতি দেবেন। কিন্তু সেই ধারণা যে সম্পূর্ণ ভুল, সেটি তাকে বারবার স্পষ্ট করতে হয়েছে।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ের ঘটনা তুলে ধরেন রাধিকা। তার ভাষ্য, একটি সিনেমার সেটে তাকে শার্টের বোতাম খুলে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে বলা হয়েছিল। এরপর অ্যাকশন চলাকালে শার্ট সরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলে তাকে আরও অস্বস্তিকর একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়।
রাধিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে শুধু অন্তর্বাস পরে ওই দৃশ্যের শুটিং করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমন প্রস্তাবে তিনি হতবাক হয়ে যান। অভিনেত্রীর কাছে সেটি ছিল শুটিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
রাধিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে, পর্দায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর প্রদর্শন করানোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কোনো চরিত্র বা গল্পের প্রয়োজনে কোনো দৃশ্য করা হলে সেটি এক বিষয়; কিন্তু শুধুমাত্র দর্শকদের আকৃষ্ট করা বা আলোচনায় আসার জন্য অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য যুক্ত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে বরাবরই স্পষ্টভাষী রাধিকা। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আবারও সেই অবস্থানই উঠে এসেছে। তার মতে, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী পর্দায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করলেই ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনের সব ধরনের প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন—এমন ধারণা সঠিক নয়।
রাধিকার অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে পেশাগত সীমারেখা, সম্মতি এবং চিত্রনাট্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের মূল বিষয়—একজন অভিনয়শিল্পীর পর্দার চরিত্র বা কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্যে অভিনয় করার সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিগত সম্মতি বা সীমারেখার বাইরে সাধারণীকরণ করা উচিত নয়।












