ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দিনব্যাপী সফরে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর ফেনীতে প্রথম সফর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
সফরের শুরুতে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী ঘিরে আরও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীতে কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরশুরাম ও ফুলগাজীর কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদারক করছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বন্যা ও জলাবদ্ধতার ক্ষতি কমিয়ে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার পর ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।












