দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরিশালের লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বরিশাল সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। প্রকল্পের পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি আবাসিক ভবন, সাতটি অনাবাসিক ভবন এবং আরও ১০টি অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, অগ্নিনির্বাপণ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সেনানিবাসে তিনটি পদাতিক ব্রিগেড, একটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং বিভিন্ন ডিভিশন ও এরিয়া ইউনিটের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, বরিশাল ও পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এ অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রসারিত সেনানিবাস থাকলে এসব দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বড় ধরনের দুর্যোগের সময় অতীতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস থেকে দক্ষিণাঞ্চলে সহায়তা নিতে হতো। যশোর সেনানিবাসে থাকা ৫৫ পদাতিক ডিভিশন দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে।
তবে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রম বাড়ার কারণে দূরবর্তী একটি সেনানিবাস থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বরিশাল ও পটুয়াখালীর মাঝামাঝি পায়রা নদীর তীরে লেবুখালীতে সেনানিবাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি অফিস ও আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলে সেনানিবাসটির প্রশাসনিক ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রসারিত সেনানিবাসটি শুধু দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারেই নয়, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখবে।












