বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে রাজপথে ব্যাপক উপস্থিতি ও শোডাউন নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে তারেক রহমানের ফেনীর যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে তাকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে স্বাগত জানান নজরুল ইসলাম আজাদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব। পরবর্তীতে সফর শেষে রাতে ফেরার পথেও আড়াইহাজারের হাজার হাজার নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেন এবং দলীয় প্রধানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান। তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আজাদ অনুসারী নেতাকর্মীরা তারেক রহমান ফেরাত আগ পর্যন্ত ফিরে যাননি।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল, সকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও রাতের বেলায় নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারী ও রাজপথের অনুগত নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। রাতে দলীয় প্রধানের জন্য রাজপথে এই অবস্থানকে নজরুল ইসলাম আজাদের প্রগাঢ় দলীয় আনুগত্য, দায়িত্বশীলতা এবং জিয়া পরিবারের প্রতি গভীর আবেগের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে সকালে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় সাংবাদিকদের আজাদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে যাচ্ছেন একটি অনুষ্ঠানে। আজ আড়াইহাজারের সর্বস্তরের জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে এই মদনপুরে এসেছে। আপনারা জানেন এই আসনটি আড়াইহাজার থেকে অনেক দূরে। মদনপুর বন্দর তারপর সোনারগাঁ তারপর আড়াইহাজার। কিন্তু আড়াইহাজারের জনগণ তারেক রহমানকে ভালবাসে। তারা তারেক রহমানের সাচ্চা সৈনিক। ফ্যাসিস্ট আমলে আড়াইহাজারের জনগণ তা বারবার প্রমাণ করেছে।
আজকের আড়াইহাজারের জনগণ যেভাবে এখানে এসেছে। আড়াইহাজারের মাটি বিএনপির ঘাঁটি আড়াইহাজারের মাটি তারেক রহমানের ঘাঁটি এটা আজকে জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান আমাদের নেতা, অভিভাবক। আমরা তারেক রহমানের সৈনিক হিসেবে আপনাদের পাশে আছি। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী যখন কুমিল্লা যাচ্ছিলেন তখনও আড়াইহাজারের জনগণ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় দিয়ে ফিরেছিল। আজ এখানে বিভিন্ন ইউনিটের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারিরা আছেন। সকলে বদ্ধপরিকর রাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার সময় তাকে বিদায় দিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো।
১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজপথের অগ্নিপরীক্ষা: নজরুল ইসলাম আজাদ কেবল সাময়িক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ নন; বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যখন নারায়ণগঞ্জের রাজপথ ছিল প্রতিকূল ও থমথমে, তখনও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে ছিলেন। রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার হতে হয়েছে, মুখোমুখি হতে হয়েছে রাজনৈতিক মামলার। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলেও তাকে রাজপথ থেকে বিচ্যুত করা যায়নি।
জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আস্থা ও ত্যাগ: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলনের দিনগুলোতেও নজরুল ইসলাম আজাদ ছিলেন অগ্রভাগের সৈনিক। বেগম খালেদা জিয়ার আদালত কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হাজিরার সময় তার গাড়ির বহরে আজাদের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তৎকালীন সরকারের টিয়ারগ্যাস, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হয়েও তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে একবিন্দু সরেননি।
শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, ঢাকার রাজপথে প্রতিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আজাদের বিশাল শোডাউন ছিল বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম শক্তি। এর পাশাপাশি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলায় জর্জরিত ও গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জের রাজপথের অগুনতি নেতাকর্মীর জামিন নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে আর্থিক ও সামাজিকভাবে দাঁড়িয়ে নিজের মানবিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আড়াইহাজার ও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আজাদের এই ধারাবাহিক সক্রিয়তা আবারও প্রমাণ করল, জিয়া পরিবারের প্রতি তাঁর আনুগত্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ত্যাগ ও বিশ্বাসের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।










