মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাত দফা শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। এসব শর্ত নিয়ে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাতার ইতোমধ্যে ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
রেজাইয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। তিনি বলেন, আলোচনায় ফিরতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট এবং এ বিষয়ে তেহরান এখন মার্কিন প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছে।
রেজাই আরও বলেন, ওয়াশিংটনের জন্য ইরানের শর্ত মেনে নেওয়াই নিজেদের স্বার্থে ভালো হবে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন হুমকিকে অগ্রাহ্য করে বলেন, ইরান ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এটি ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য; এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংঘাতের বাস্তব পরিণতি নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের শর্ত সামনে আসার পেছনে কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতা রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর জন্য মধ্যস্থতা করে আসছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনার কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে।
সংঘাতের পাশাপাশি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুদ্ধের অবসান, অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত হবে না।
রেজাই দাবি করেছেন, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলা মোকাবিলায় ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তিনি পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধজাহাজের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে তাঁর এসব সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও ইরানের অবস্থান আলোচনায় রয়েছে। রেজাই বলেন, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের নীতির পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনও দুই পক্ষকে সংযম দেখিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এখন ইরানের পাঠানো শর্তে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয় কি না, সেটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।












