পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’; উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত দুই অ্যালামনাই সদস্য, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ একাডেমিক কার্যক্রম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম টানা ২২ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভবনের ভেতরে আটকে থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উপাচার্যসহ সেখানে অবস্থানকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলছিল। এদিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে একজনের রক্তচাপ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক।
সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর তাঁরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্তও তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে আটকে থাকায় উপাচার্যসহ সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক চাপ ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। এরপর তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় ভবনের ভেতরে থাকা অন্য ব্যক্তিরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা এবং দীর্ঘ সময় ভবনের ভেতরে আটকে থাকার পরিস্থিতি তাঁদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
আন্দোলন ও শাটডাউনের কারণে চুয়েটে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে নতুন উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।












