যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ঘাঁটিটিকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকির কারণেই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সোমবার নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি হুমকির বিষয়ে অবগত ছিল এবং ঝুঁকি এড়াতেই বোমারু বিমানগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, বিমানগুলো দুর্ঘটনাবশত ঘাঁটি থেকে সরেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কিছু হুমকি ছিল এবং শত্রুকে প্রলুব্ধ করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোকাবিলা করতে চায়। তবে কার কাছ থেকে বা কী ধরনের হুমকি এসেছিল, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা অথবা ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ঘাঁটিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল বোমারু বিমানগুলোতে হামলার আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখা যাওয়ার পর পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। গ্লুচেস্টারশায়ারের ওই বিমানঘাঁটিকে ঘিরে একটি ঘটনা বর্তমানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের তদন্তাধীন।
প্রাথমিকভাবে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ওই ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ঘটনাটিতে ইরানের ভূমিকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ থাকার কথা বলেছিলেন। তবে এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও ইউনিট নিয়মিতভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়। অনুশীলন, নতুন সদস্য বা বিমান আসা এবং পুরোনো সদস্য ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার মতো কারণে এ ধরনের পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন।
এদিকে ইরান অতীতে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি ইরানের বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গ্লুচেস্টারশায়ারের উইলফোর্ড গ্রামের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর অগ্রবর্তী পরিচালন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের অনুমোদনের পর ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য এই ঘাঁটি থেকে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টোফ বার্গস রয়টার্সকে বলেন, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বড় পরিসরে বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ঘাঁটিটিকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকির মাত্রাও কমতে পারে।
তাঁর মতে, বিমানগুলো সম্ভাব্যভাবে দিয়েগো গার্সিয়া অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির সক্ষমতা, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি ছিল কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যের পর পরিস্থিতির আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স











