ইরানি জাতির দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে এক ধরনের অবস্থান নিলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে।
গালিবাফ বলেন, সময়ক্ষেপণ কিংবা একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ইরানের অবস্থান ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে তেহরানের উত্থাপিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের জাতীয় নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে যুক্তরাষ্ট্র মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। একদিকে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পরে আবার মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
গালিবাফ বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণ করে না। বরং প্রতিপক্ষের বাস্তব পদক্ষেপ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করেই তেহরান সিদ্ধান্ত নেবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনির নির্দেশনায় দেশটি সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় ঐক্যের দিক থেকে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন গালিবাফ।
তিনি বলেন, যে পক্ষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে, আলোচনার টেবিলেও শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শক্ত থাকে। ইরান একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে ইরান ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ ফ্রন্ট প্রস্তুত রয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন গালিবাফ।












