বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় কোনো দাবি নিয়ে নয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়কে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, শিল্পের চাকা সচল রাখা, পানির সংকট দূর করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান—এসব বিষয়ও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য আট দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। সরকার এসব দাবি বাস্তবায়ন না করলে দাবিগুলো এক দফায় পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
পথসভায় এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তাঁদের আন্দোলন সরকার বা দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য। তিনি দেশে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও জানান।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা ও লুটপাট বন্ধের লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন চলছে।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী হয়ে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
লংমার্চটি আট দফা দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে।












