ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর নতুন একটি ফেডারেল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটি বর্তমানে ‘খুব খারাপ অবস্থায়’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হয়ে যাবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের যে দাম ছিল, তা আবারও সেই পর্যায়ে ফিরে আসবে। তাঁর বক্তব্যের সময় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত ছিল।
তবে তেলের বাজারে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে দিনভেদে ওঠানামা দেখা গেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার মন্তব্যের পর তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ দেখা যায়। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের কথা অস্বীকার করার পর ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টাও চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা, মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে কয়েকটি শর্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এদিকে সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতেও পড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
অন্যদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বের কারণে সংঘাতের যেকোনো অগ্রগতি বা অবনতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেলেও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ফলে ট্রাম্পের ‘খুব শিগগিরই’ সংঘাত শেষ হওয়ার মন্তব্য নতুন কূটনৈতিক আশার ইঙ্গিত দিলেও, যুদ্ধের অবসান বা চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দুই দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অবস্থানের ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।












