আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শনিবার রাতে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচজুড়ে ভারতীয় দল বড় কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের হয়ে প্রথমার্ধে একটি করে গোল করেন তরুণ তারকা এস্তেভাও ও স্ট্রাইকার পেদ্রো। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। তাঁর দুই গোলেই ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় রক্ষণভাগের ওপর চাপ তৈরি করে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ২৮তম মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় তারা। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ভারতীয় বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করেন এস্তেভাও। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। ৪২তম মিনিটে এস্তেভাওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে শট নেন পেদ্রো। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে গেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে তুলে নিয়ে স্যামুয়েল লিনোকে মাঠে নামানো হয়। মাঠে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই বদলি ফরোয়ার্ড।
৫৮তম মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্স ভেঙে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে গোলরক্ষকের বাঁ পাশ দিয়ে নিখুঁত প্লেসমেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন লিনো। এতে ব্রাজিলের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আবারও গোলের দেখা পান লিনো। ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের ৪-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ফলে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন এই ফরোয়ার্ড।
কলকাতার এই ম্যাচে অবশ্য ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান তারকা রাফিনহাকে পাওয়া যায়নি। চোটের কারণে তাঁকে বিশ্রামে রাখে দলীয় মেডিকেল বিভাগ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ডান পায়ের উরুর পেশিতে চোট পেয়েছিলেন রাফিনহা। শারীরিক পরীক্ষায় সামান্য পেশির ফোলা ধরা পড়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাফিনহার অনুপস্থিতি অবশ্য ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি। আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের ওপর আধিপত্য ধরে রাখে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত চার গোলের বড় জয় নিয়েই কলকাতার মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।












