আগাম জামিন না পাওয়ার পর চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ গোপনে দেশ ছেড়েছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন তিনি। তবে তাঁর দেশত্যাগের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিয়াজ কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে—১৬ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রিয়াজ দেশ ছেড়েছেন। তবে বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বিষয় তাদের নজরে আসেনি। তিনি স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন রিয়াজ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তখন বলা হয়েছিল, তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি খুবই সীমিত হয়ে পড়ে। তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে।
চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন রিয়াজ। শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রিয়াজের দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে ঘিরে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এমনকি তাঁর মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তাঁর স্ত্রী সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে রিয়াজ কোথায় আছেন, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
রিয়াজ আহমেদ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘মোল্লাবাড়ির বউ’সহ বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ২০২২ সালে মুক্তি পায়।
এদিকে ১৬ সেপ্টেম্বর রিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন—এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো সরকারি বা পারিবারিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবির পর্যায়েই রয়েছে।












