দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নেওয়া হবে।
রোববার এ-সংক্রান্ত নীতিমালা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যটকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী এ ফি সংগ্রহের প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পূর্বানুমতি ছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তর কিংবা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ সেন্টমার্টিন রুটে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমোদন দিতে পারবে না। পর্যটক পরিবহনে কেবল নির্ধারিত দুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সামনে রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকায় ভ্রমণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং জেলা ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও এবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা জরুরি হবে। পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখা, অনুমোদিত নৌযানে যাতায়াত এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের মাধ্যমে দ্বীপের প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সফলতা।