ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। একই সঙ্গে ওই যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিও ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় মারিব গভর্নরেটে অভিযান চালানোর সময় সৌদি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট ধরন বা বিমানটি কখন ভূপাতিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে একটি যুদ্ধবিমানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাওয়ার দৃশ্য এবং পরে মরুভূমিতে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ভিডিওতে হুতিযোদ্ধাদের ধ্বংসাবশেষের কাছে অবস্থান করতেও দেখা গেছে। একটি অংশে সৌদি বিমানবাহিনীর প্রতীক ও ‘৫৫৩৯’ নম্বরের মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্য থেকেই বিমানটি সত্যিই সৌদি এফ-১৫ এবং সেটি হুতিদের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান দখল করেছে। একই সঙ্গে সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তাও চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও লোহিত সাগর-সংলগ্ন কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তবে সৌদি এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সম্পর্কে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে হুতিদের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।












