ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই টাকার মান বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮১ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকায় পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭২৬ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার বিপরীতে পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭০০ রুপি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট। ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপি কিনতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে একই রুপির জন্য প্রয়োজন হতো প্রায় ১ টাকা ৩৭ দশমিক ৮২ পয়সা। অর্থাৎ এক রুপি কিনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা লাগছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৪২ দশমিক ৯২ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও টাকার এই শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল প্রতি রুপিতে প্রায় ১ টাকা ২৭ দশমিক ৮৯ থেকে ১ টাকা ২৭ দশমিক ৯৬ পয়সা। ২২ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রস রেটেও ভারতীয় রুপির দর প্রায় ১ টাকা ২৮ দশমিক ০৭ থেকে ১ টাকা ২৮ দশমিক ২৫ পয়সার মধ্যে ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পযন্ত্র ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।
এর ফলে ভারত থেকে পণ্য ও সেবা আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনের মতো বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও তুলনামূলক কম খরচে রুপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে মুদ্রার বিনিময় হার কমে গেলেই আমদানি পণ্যের বাজারদর একই অনুপাতে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর, শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও টাকার অবস্থানে সাম্প্রতিক উন্নতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্য ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও ডলারের বিপরীতে টাকার দর কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধিও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮৩ দিনে দেশে ৭ দশমিক ৮৮৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।












