ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথি নেতাদের বরাতে জানিয়েছে এএফপি।
হুথিদের দাবি, গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং তাদের সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলা বেড়েছে। এর আগে বিভিন্ন দিনে হুথিরা আরও বেশি সংখ্যক সৌদি হামলার দাবিও করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর এএফপি জানিয়েছিল, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি সৌদি বিমান হামলার দাবি করেছিলেন। তবে এসব হামলার সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।
হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার এই দাবি এমন সময় এসেছে, যখন ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকা সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এর পাল্টা হিসেবে হুথিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি হুথি ড্রোন বাধা দেওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে তাইফ এলাকায় একজন নিহত ও দুজন আহত হন। কয়েকটি ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে এক লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল এবং এশিয়া-ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথ। হুথিদের অগ্রযাত্রা ও সৌদি পাল্টা বিমান হামলার কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি সৌদি বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকশ হামলার যে হিসাব হুথি কর্তৃপক্ষ দিয়েছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব দাবি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।












