ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিকসের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হামাস। রোববার এক বিবৃতিতে ব্রিকসের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সমর্থনের জন্য জোটটির প্রশংসা করেছে সংগঠনটি।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণায় ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ব্রিকস।
ঘোষণায় জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজা ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে জনগণকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনমিতিক কাঠামো পরিবর্তনের বিরোধিতা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ব্রিকসের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।
ব্রিকসের ঘোষণায় অধিকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা পরিবর্তনের লক্ষ্যে একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি।
এ ছাড়া গাজায় ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি সংযম, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর প্রতি তাদের ঘোষণার অবস্থানগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটির বক্তব্য, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।












