সরকারি কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গ্রাম ও শহরে সমানভাবে লোডশেডিং ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে যাতে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে লোডশেডিং কিছুটা বেশি হলেও দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সংকটের প্রভাব যেন শুধু গ্রাম বা শহরের ওপর বেশি না পড়ে, সে জন্য সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংকট ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পূর্ণাঙ্গ সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রায় দুই বছর সময় ধরা হয়েছে। একই সময়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প শেষ হলে দেশের গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সার পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে এবং সার সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবে কিছু অঞ্চলে বিতরণ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক ভালো ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের শতভাগ আত্মবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি ফিরে না এলেও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কমেছে বলে জানান তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীকে ঘিরে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কোনো নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার কথা বললেও কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশের আগে অনুমানভিত্তিক আলোচনা বা কারও ওপর দায় চাপানো উচিত নয়। চার্জশিট দাখিল হলে গণমাধ্যম বিস্তারিত জানতে পারবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। বোয়িং কেনার বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি। বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে মাল্টিরোল ফাইটার কেনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
সব মিলিয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে মঙ্গলবারের এই ব্রিফিং।












