কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বৈঠক শেষে তাঁদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে ঘটনার পর থেকেই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ এবং আলোচনা চলছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় তাঁরা আটক হন।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কারবারির ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অংশে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে এএসআই ইমরান হোসেনও আটক হন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার পর দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত আনা সম্ভব হয়।
সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এ ঘটনা ঘটায় সীমান্ত অতিক্রমের পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে কী পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।












