যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতার দাবি করার এক দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি তেলের পাম্পে রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোরে চালানো হামলায় তেলের পাম্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। একই সময়ে শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামেও হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ড্রোন হামলায় কিয়েভের একটি তেলের পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় গুদামেও হামলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হামলাটি এমন সময়ে হলো, যখন সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করেন, কিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিশ্চিত করতে পারে যে মস্কো দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখবে, তাহলে কিয়েভও উত্তেজনা কমাতে প্রস্তুত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এসব পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে উভয় দেশেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর কিয়েভে রুশ হামলায় দুটি তেলের পাম্পে আঘাত লাগে। ওই হামলায় দুজন নিহত ও ১২ জন আহত হন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের প্রায় ৩০০টি তেলের পাম্পে হামলা হয়েছে, যার বেশির ভাগই সম্মুখসারির অঞ্চল বা তার আশপাশে।
এদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিন ট্রাম্পের রুশ ডিজেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষিত সম্ভাব্য ‘এনার্জি ট্রুস’ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কিয়েভের শর্ত হলো—রাশিয়াকে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যদিকে হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা জবাব দেওয়ার অবস্থানও ধরে রেখেছে ইউক্রেন।
ফলে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবির পরপরই কিয়েভে তেলের পাম্পে নতুন হামলার খবর রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জ্বালানি অবকাঠামোকেন্দ্রিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।












