টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্বের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বিশ্ব অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে; তাই এখন আর বিলম্ব না করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে ২০২৬ সালের ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনের মূল বার্তা ছিল—সম্মিলিত উদ্যোগ, কার্যকর সমাধান এবং দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার দিকে অগ্রসর হওয়া।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’ তিনি এসডিজি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের এসডিজি মোমেন্টে বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিদ্যমান ঘাটতি এবং দ্রুত অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এসডিজি প্রতিবেদনে প্রবণতা-তথ্য পাওয়া ১৩৯টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৩৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা সঠিক পথে রয়েছে অথবা মাঝারি মাত্রায় অগ্রগতি করছে। তবে অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, ঋণসংকট, সংঘাত ও বৈষম্য এখনো এসডিজি অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় এসব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এককভাবে কোনো দেশের উদ্যোগের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে এবারের এসডিজি মোমেন্টের মূল ভাবনাও সামঞ্জস্যপূর্ণ—কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বা জনগোষ্ঠী একা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে না; এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও সম্মিলিত পদক্ষেপ।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্বে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।












