রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পেছনে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় পাঁচটি ককটেল ও পেট্রোল বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরকগুলো শনাক্ত করার পর বোম ডিসপোজাল টিম সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রায়েরবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসআরবি-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরের পেছনে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এসআরবির গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিস্ফোরক রাখার স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেল ও পেট্রোল বোমাগুলো শনাক্ত করে।
এসআরবি-২ অধিনায়ক বলেন, কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকলে তা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্ষম হয়েছে। তবে এসব বিস্ফোরক কারা সেখানে এনে রেখেছে এবং এগুলো কোনো নির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনার অংশ কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
নয়মুল হাসান জানান, বিস্ফোরক মজুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এগুলো সেখানে রেখেছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, একই এলাকার কাছাকাছি গত বছরও পেট্রোল বোমা ও ককটেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল। নিরাপত্তার দিক থেকে এলাকাটিকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে সহজেই লোকজনের চলাচল সম্ভব। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতকারীরা জায়গাগুলো ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এসআরবি-২ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। উদ্ধার করা ককটেলগুলো এসআরবি-২-এর সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনের আলোয় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো কারা মজুদ করেছিল কিংবা সেগুলো কোনো নাশকতার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।












