গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহমেদের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মহিউদ্দিন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন না করায় আসামির অনুপস্থিতিতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন আদালত। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও পর্যালোচনা করা হয়। জবানবন্দি ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিচারক জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু জানায়নি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে ঘটনার কথা প্রকাশ করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানালেও তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলমান। এ ছাড়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন পাল্টা অভিযোগ করেছেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন অধ্যক্ষ। এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের দলবদ্ধ হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
শিশুটির প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।