নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের ঝলকানি ও আগুনে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
মৃতরা হলো—আতিয়া (১১) ও জিদনী (১৪)। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আতিয়ার মৃত্যু হয়। পরে বুধবার সকাল ৬টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনীর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার ছাদে। মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীরা ছাদে খেলতে গেলে হঠাৎ বিকট শব্দ ও আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে পাঁচ শিক্ষার্থীকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
নিহত জিদনী ছাড়াও লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩) ও আছিয়া (১২) চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, লামিয়ার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং সে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়া আছিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় তাদের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীই মাদ্রাসাটির আবাসিক ছাত্রী। তারা বিকেলে ছাদে খেলতে গিয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। ঘটনাস্থলে আখের কাঁচা পাতা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখ বা এর পাতার মাধ্যমে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে ঝলকানি ও আগুনের সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর থেকে গুরুতর দগ্ধ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।












