মিরপুরে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা হকারদের অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের চারপাশ ও সংলগ্ন হোপ মার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ফুটপাতের ওপর বসানো বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পরে ভাঙা অংশ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সিটি করপোরেশনের ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযানের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও পথচারী। তবে একই সঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবারের অভিযানের সময় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সুযোগে তাদের অনেক মালামাল লুটপাট হয়েছে। তারা ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থান ও স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া, যানবাহন ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে ওই সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মোট চার মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবারের ঘটনার পর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর আগে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত ছিল বলে তারা মনে করছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, ওই অভিযানে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের অভিযানে মিরপুর-১০ ও হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালানো হয়। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এ ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।












