বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়েছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে যান তারেক রহমান। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে মুনাজাতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বিএনপির আদর্শ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা স্মরণ করছেন।
এবার বিএনপি পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ৯টায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে বিএনপি।
এ ছাড়া পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া ও মুনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।












