দেশের টেকসই জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। স্থল ও গভীর সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও রূপান্তরের অবকাঠামো উন্নয়নেও রিয়াদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম আসরের পার্শ্ববৈঠকে দেশটির বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণ, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এ সময় সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। ওই ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সৌদি আরব সফরের অংশ হিসেবে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবিরের সঙ্গেও পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে গ্যাস আমদানির উৎস ও সরবরাহপথ বহুমুখী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কারিগরি দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আরও গতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে সৌদিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ জ্বালানির উৎপাদন সম্প্রসারণে সরকারের গৃহীত নীতির প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে এসিডব্লিউএ পাওয়ার।
জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা মোকাবিলা, প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে প্রস্তাবিত সহযোগিতা এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, চুক্তি ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ওপর।












