যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, ইরান সংঘাতের প্রভাব, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাদের ধারণা, নির্বাচনে ভালো ফল নিশ্চিত করতে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ করছেন। তবে পুতিনের নির্দেশে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এমন দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ভোট রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারা ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। রিপাবলিকানরা প্রত্যাশিত ফল না পেলে আইন প্রণয়ন ও সরকারের নীতি বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্টকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।
নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামেও পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া গেলে ট্রাম্প প্রশাসন তা কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা এবং ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। এসব সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেন রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে ওয়াশিংটন যদি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতার পথে এগোয়, তাহলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, সামরিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বিশেষ দূত পাঠিয়ে জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট দূতের পরিচয়, আলোচনার সময় এবং বক্তব্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ নেই। তাই ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি হুমকি দিয়েছে কিংবা পুতিনের নির্দেশে পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয় ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পেছনে নির্বাচনী হিসাব কতটা কাজ করছে, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে প্রশাসনের বক্তব্য, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বাস্তব সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখতে হবে।