পাবনায় ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলির ধর্ষণ ও হত্যা, কক্সবাজারে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ১৩ বছরের অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতার পেছনে থাকা সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্মম ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, পাবনার শিশু কামরুন্নাহার কলির ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং কক্সবাজারে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শিশু অপ্রতিমের হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুরো দেশ স্তম্ভিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এই ভূখণ্ডকে আর কতদিন পর নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। তিনি নিহত শিশু কলি ও অপ্রতিমের পরিবারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় প্রিয়জন হারানো সব পরিবারের জন্য সুবিচার কামনা করেন।
তিনি বলেন, নির্মম এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির একটি কার্যকর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুধু অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তির ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়—অপরাধ ও সহিংসতার পেছনে যেসব সামাজিক কারণ কাজ করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই ইসলামি স্কলার।
বিশেষ করে মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যেসব কারণে এ ধরনের নৃশংসতার পথ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তার বক্তব্যে একই সঙ্গে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব পাওয়া যায়—নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি কমাতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করা।
অপ্রতিমের মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি উঠেছে। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনাকে একই প্রেক্ষাপটে এনে ন্যায়বিচার ও সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।










