রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ওই পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। এ কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তদন্তে ঘটনায় যারাই জড়িত বলে শনাক্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন সামগ্রী আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি লুট হওয়া দুই ট্রাকভর্তি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত এবং মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনার কিছু অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাদান সামগ্রী, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি এবং পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই লুটপাট চলার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম স্বীকার করেছিলেন যে হামলা ও ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। পরে তাঁকে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। তদন্তের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে যারাই জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি পুলিশি অভিযান নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়নি বলেও তিনি জানান।












