সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের হামলা বন্ধ করা জরুরি। সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে সৌদি আরবে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা ঘিরে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও দক্ষিণাঞ্চলসহ সৌদি আরবের চারটি অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
জোটটির দাবি, এসব হামলার প্রচেষ্টায় ১১টি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি, শুধু রিয়াদের আকাশে একটি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার তথ্যও জানানো হয়।
তবে এসব ড্রোন কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি জোটটি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলার ঘটনায় চারজন নিহত হন। সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। অন্য ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করা হয়।
ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতও নতুন করে জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলার চেষ্টা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।