সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার করা অনুরোধের বিষয়ে ভারতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের সরকার এ বিষয়ে বারবার জানিয়েছে যে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি আইনি ও কাঠামোবদ্ধ। সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। আদালত বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত থাকায় কেউ এর সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ওঠে আসে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জানায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখন সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদীও আইনি কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল এবং শেখ হাসিনা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন—এমন খবর তিনি টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখছিলেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নিত, সেটিও একটি বাস্তব প্রশ্ন ছিল।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিটি সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করা সম্ভব। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, পানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ভারত সফর নিয়ে আলোচনার মধ্যেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। আগস্টের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেছিলেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো সম্ভাব্য তারিখ বা সময়সীমা না দিয়ে শুধু জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে।












