যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরান দৃঢ়ভাবে তা মোকাবিলা করবে, এমনকি পরিস্থিতি ‘ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের’ পর্যায়ে গেলেও।
রোববার স্থানীয় সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি কূটনীতির পথও খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন। আরাগচির ভাষ্য, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি শান্তির সুযোগও নষ্ট করতে চায় না তেহরান।
আরাগচি বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে এবং নতুন কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত যত ভয়াবহ পর্যায়েই পৌঁছাক, ইরান তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তেহরানের বিশেষ কোনো উদ্বেগ নেই। ইরানের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে। প্রস্তাবটির আওতায় যুদ্ধবিরতি এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, ইরান সামরিক চাপ কমানো ও অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল।
আরাগচি জানান, যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান রাজি হতে পারে। তবে এর বিনিময়ে ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়, তেল বিক্রির সুযোগসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত নতুন কোনো দাবি নয়; এর সঙ্গে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়গুলোও যুক্ত রয়েছে।
তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদে প্রবেশাধিকারের মতো শর্ত চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব সুবিধা পাওয়ার পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানের হরমুজ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন। ফলে একদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতির বার্তা, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই ধরনের তৎপরতাই একসঙ্গে চলছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের প্রস্তাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে দুই পক্ষের শর্ত ও অবস্থানের পার্থক্য এখনো বড় হওয়ায় পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।












