রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন আরও জোরদার করতে ব্যাংকিং, বিমা, মোবাইল আর্থিক সেবা, সিগারেট ও মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত খাতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনবিআরের ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে নিয়মিত মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে।
এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) আজিজুর রহমানের সই করা এক বিশেষ আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজস্ব বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় নির্ধারিত ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা আনা, কর আদায়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে দ্রুত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন আদেশের আওতায় থাকা ১১টি খাত হলো—সিগারেট, মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক, বিমা, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), এমএস পণ্য, ওষুধ, কোমল পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ উৎপাদন বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ১১টি পণ্য বা সেবা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে অন্য কোনো ব্যবসা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট খাতের পাশাপাশি অন্য ব্যবসা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সামগ্রিকভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
অনলাইনে মূসক দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে এর আগে এনবিআর থেকে জারি করা বিভিন্ন খণ্ডকালীন নির্দেশনা বা আদেশও নতুন এই আদেশের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনাই প্রযোজ্য হবে।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং করজাল আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই তালিকা ভবিষ্যতে পরিবর্তনযোগ্য বলেও জানিয়েছে এনবিআর। কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার চাহিদা ও কর ব্যবস্থার স্বার্থ বিবেচনা করে তালিকায় নতুন কোনো খাত যুক্ত করতে পারবে।
একইভাবে প্রয়োজন হলে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোনো খাত বাদ দেওয়ার ক্ষমতাও এনবিআরের হাতে থাকবে। অর্থাৎ ১১টি খাতের বর্তমান তালিকাকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও বড় করদাতা খাতগুলোতে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের একটি অভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি হবে।












