সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। শনিবারের এ হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। <Cite
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশি রয়েছেন। বিদেশি নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত করেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদনে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শনিবার রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা প্রায় ২৬০টি ফ্লাইট বাতিল এবং আরও ২১৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল।
এদিকে, হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পাশে থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা বলেছেন।
হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত জোটের সামরিক তৎপরতার মধ্যেই সাম্প্রতিক হামলাগুলো ঘটেছে। বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরের এই ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও তাঁদের বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।












