ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। গত ৭২ ঘণ্টায় বিভিন্ন ফ্রন্টে ৭৫৬টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, এসব অভিযানে ২ হাজার ৩১৬ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সময়ে চারজন ইরানি বিশেষজ্ঞ নিহত হওয়ার দাবিও করেছে ইয়েমেনি বাহিনী। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রোববার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনের অভিযানে বিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, মাঠ কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশের কিতাফ ও আল-বাকা এবং আলাব ফ্রন্টের পাশাপাশি আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ ও তাইজ এলাকায় হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালানো হয়। হামলায় সেনা পরিবহনকারী যান, সামরিক যান, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্রের গুদাম এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র আরও দাবি করেন, তাইজ প্রদেশে নিহত চার ইরানি নাগরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ও উৎক্ষেপণে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁদের মৃত্যু ইয়েমেনে হুথিদের প্রতি ইরানের চলমান সহায়তার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক তৎপরতা গত কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চল ও লোহিত সাগর উপকূলের দিকে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
তাইজ প্রদেশেও গত কয়েক দিনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি বাহিনী একাধিক এলাকায় বিমান ও স্থল অভিযান চালানোর দাবি করেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এসব অগ্রগতি ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তী সময়ে সংঘাতের তীব্রতা কমলেও রাজনৈতিক সমাধান না হওয়ায় দেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এ অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।












