আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় ২৬ মাস পর চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বুধবার সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয়।
সকাল ৮টার দিকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন করা হলেও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর মরদেহে মাংসপেশি অবশিষ্ট না থাকলেও হাড়গোড়সহ বিভিন্ন ফরেনসিক আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় চাঁদপুর সদর উপজেলার চাপিলা মাদ্রাসা এলাকায় সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন বলে মামলার তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরে তাঁরা গাড়িতে করে সেখান থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেও বাগড়া বাজার এলাকায় স্থানীয়রা তাঁদের গাড়ি আটকে দেয়। সেখানে হামলার ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। ওই সময়কার অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিলে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরই বুধবার মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয়।
সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও রাজস্ব ফাঁকি-সংক্রান্ত একাধিক মামলা থাকার তথ্যও রয়েছে। অতীতে তিনি কারাভোগও করেছেন বলে জানা যায়।
মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।










