ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নর্থ ক্যারোলাইনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ শেষের দিকে রয়েছে। ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় বলেও জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে যোগাযোগটি সরাসরি হয়েছে, নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই সরাসরি বার্তা পেয়েছেন। তবে ওই যোগাযোগের বিস্তারিত বা কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। এর আগে চীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার এবং নতুন করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। জবাবে আরাকচি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে এমন কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তেহরানের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাসের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের নতুন পর্ব শুরু হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে সংঘাতটি আঞ্চলিকভাবে আরও বিস্তৃত হয়।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান বা নতুন কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের সঙ্গে কথিত সরাসরি যোগাযোগ শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।












