ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। শনিবার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁদের আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির আইনজীবী দল।
সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়া তিন নেতাকে আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে শর্তটির সুনির্দিষ্ট আইনি ভাষা ও আদেশের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
মুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ২টায় তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করবেন। সেখানে আটকের ঘটনা, পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি।
দলটির তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মুক্তির পর সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে। বিবৃতিতে দলটি বলে, ‘আরশোলারা কখনও মরে না।’ একই সঙ্গে তিন নেতাকে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে দিল্লি পুলিশ বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করে দলটি।
রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আটকের আইনি ভিত্তি, মুক্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনাটির আইনি ও রাজনৈতিক দিক আরও স্পষ্ট হবে।












